Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সাধারণ তথ্য

জাতীয় শিল্পনীতি-২০১০ অনুযায়ী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সংজ্ঞা নিম্নরূপঃ (১) ক্ষুদ্র শিল্পঃ ।. ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে ‘‘ক্ষুদ্র শিল্প’’ (Small Industry) বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বুঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয় সহ ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৫-৯৯ জন শ্রমিক কাজ করে। ।।. সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে ‘‘ক্ষুদ্র শিল্প’’ (Small Industry) বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বুঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয় সহ ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১০-২৫ জন শ্রমিক কাজ করে। (২) কুটির শিল্পঃ- ‘‘কুটির শিল্প’’ (Cottage Industry) বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য বিশিষ্ট সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বুঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয় সহ ৫ লক্ষ টাকার নীচে এবং পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১০ এর অধিক নহে এরূপ শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বুঝাবে। শিল্পনীতি বাসত্মবায়নের আলোকে উপরোক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিসিক শিল্পোদ্যোক্তাদের নিম্নলিখিত সেবা প্রদান করছে।  শিল্প উদ্যোক্তা চি‎‎হ্নতকরণ।  উদ্যোক্তা উন্নয়ন।  প্রজেক্ট প্রোফাইল।  ঋণ ব্যবস্থাকরণ।  প্রকল্প নিবন্ধীকরণ।  নকশা ও নমুনা উন্নয়ন এবং বিতরণ।  রম্নগ্ন/নিস্ক্রিয় শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, সমস্যা চি‎‎হ্নতকরণ এবং সমাধানের সুপারিশকরণ।  শিল্প স্থাপনে অবকাঠামোগত সুবিধাসহ শিল্প নগরীতে পস্নট বরাদ্দকরণ।  দেশে ও বিদেশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য পরিচিতি এবং প্রচারমূলক পুসত্মক/ পুসিত্মকা প্রকাশ, আমত্মর্জাতিক মেলা/প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষামূলক সফরের ব্যবস্থাকরণ।  বিসিক প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট এর মাধ্যমে শিল্প স্থাপন এবং শিল্প ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের উপর উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান।  কক্সবাজার-সাতক্ষীরা অঞ্চলের লবণ শিল্পের মাধ্যমে লবণ চাষে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য বেসরকারী লবণ চাষীদেরকে সম্প্রসারণ সেরা প্রদান। (গ) অফিসের ইতিহাসঃ- বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে নিয়োজিত সরকারী খাতের মূখ্য প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৭ সনের তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মান প্রাদেশিক আইন পরিষদের গৃহীত ১৭নং সংসদীয় আইনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিসত্মান ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান (ইপসিক) প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এর গৌরবময় অধ্যায় হলো তখনকার যুক্ত ফ্রন্ট সরকারের শ্রম ও শিল্পমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। ৩০শে মে ১৯৫৭ সালে এ বিল আইন হিসেবে পাস হবার পর তা কার্যকর হয়। আজকের বিসিক তৎকালীন ইপসিকেরই উত্তরসূরী। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় অগ্রগতি অর্জনই বিসিকের সমুদয় কর্মকান্ড পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যকে বাসত্মবায়ন করতে গিয়ে বিসিক বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় তাদের নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করেছে। এ পর্যমত্ম বিসিকের উদ্যোগে সারাদেশে ৭৪টি শিল্প নগরী স্থাপিত হয়েছে এবং সারা দেশে বিসিকের কর্মকা- সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৪টি বিভাগে ৪টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়। বিগত ১৯৬১ সালে ভাড়াকৃত স্থানে বিসিক খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৮সালে নিজস্ব ভরনে কার্যালয়টি স্থানামত্মরিত হয়। প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে বরিশাল বিভাগ আলাদা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বিসিকের বরিশাল বিভাগের কার্যক্রম খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় হতে নিয়ন্ত্রিত হয়। খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়-এর আওতাধীন ১৬টি জেলা কার্যালয়, ১১টি শিল্প নগরী, ২টি মৌমাছি পালন কর্মসূচী, ২টি সার্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ প্রকল্প কার্যক্রম বাসত্মবায়ন হচ্ছে। অপরদিকে বিসিক শিল্প নগরী বরগুনা, স্পেশাল ইকনোমিক জোন, কুমারখালী, কুষ্টিয়া,ঝালকাঠী শিল্প নগরী ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া শিল্প নগরী বাগেরহাট সম্প্রসারণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।